স্পট গাইড

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি যাওয়ার আগে যে প্রশ্নগুলো সবার মাথায় আসে

ঢাকার কাছে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি — টিকিট, সময়, ২০০ কক্ষের প্রাসাদ আর যাতায়াত নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর।

১ নভেম্বর ২০২৬· ৪ মিনিটে পড়া· MD Nayeem Hasan
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি যাওয়ার আগে যে প্রশ্নগুলো সবার মাথায় আসে
এই লেখায়

ঢাকা থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার পথে, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় দাঁড়িয়ে আছে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি — যাকে বালিয়াটি প্রাসাদও বলা হয়। যারা প্রথমবার যাবেন, তাদের মাথায় একগাদা প্রশ্ন ঘোরে। টিকিট কত, কখন খোলা, ভেতরে আসলে কী আছে, আর ফেরার পথে কী দেখা যায়। এই পোস্টটা সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েই সাজানো — Baliati Zamindar Bari নিয়ে গুছিয়ে, সৎভাবে, সূত্রভেদ থাকলে সেটা লুকিয়ে না রেখে।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি আসলে কী

উনিশ শতকে গড়ে ওঠা এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গোবিন্দরাম শাহের নাম পাওয়া যায়। চত্বরটি প্রায় ১৬,৫৫৪ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে, আর এখানে সাতটি প্রাসাদে প্রায় ২০০টি কক্ষ আছে বলে বিভিন্ন গাইডে লেখা। মূল ফটকের দুই পাশে সিংহের মূর্তি, ভেতরে প্রশস্ত উঠোন, ফুলের বাগান, আর পেছনে পুকুর — সব মিলিয়ে জায়গাটা একটা সময়ের ছবি। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটি সংরক্ষণ ও পরিচালনা করে, আর কেন্দ্রীয় ব্লকের রংমহল ভবনে জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে। জাদুঘরে জমিদারদের ব্যবহৃত পুরনো আসবাব, সিন্দুকসহ নানা জিনিস দেখা যায়।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

ছবি: বালিয়াটি জমিদার বাড়ি — Anik Sarker, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

কখন খোলা, টিকিট কত — সৎ উত্তর

এই দুটো প্রশ্নেই সূত্রভেদ আছে, তাই দুটো দিকই বলে দেওয়া ভালো। সময় নিয়ে সূত্রগুলো মোটামুটি একমত — গ্রীষ্মকালে (এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, শীতকালে (অক্টোবর থেকে মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রতি রবিবার পূর্ণদিবস বন্ধ, সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ — সোমবার দুপুর ২টার পর খোলে। শুক্রবার দুপুরে নামাজের বিরতি থাকে, আর প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতি থাকে।

টিকিট নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা চোখে পড়ে। পুরনো লেখায় দেশি দর্শনার্থীর জন্য ২০ টাকা, সার্কভুক্ত দর্শনার্থীর জন্য ১০০ টাকা আর বিদেশিদের জন্য ২০০ টাকা লেখা আছে। আবার সাম্প্রতিক কিছু গাইডে জনপ্রতি ৩০ টাকা লেখা। কোনটা সেদিন কাউন্টারে চলছে, সেটা যাওয়ার দিনই নিশ্চিত হবে — তাই বাজেটে ৩০ টাকা ধরে রাখুন, কম লাগলে সেটা বোনাস। ছাত্রছাত্রীদের জন্য ছাড়ের কথা কিছু গাইডে আছে, পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।

কীভাবে যাবেন

| পথ | বিবরণ |

| ঢাকা গাবতলী থেকে | আরিচা বা মানিকগঞ্জগামী বাস, সাটুরিয়া হয়ে যায় এমন বাসে উঠুন; এস বি লিংক সাটুরিয়া যায় |

| নামতে হবে | সাটুরিয়া জিরো পয়েন্ট, সুপারভাইজারকে বালিয়াটির কথা বললেই নামিয়ে দেবে |

| জিরো পয়েন্ট থেকে বাড়ি | প্রায় ১ কিমি, ইজিবাইক বা সিএনজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা (সাটুরিয়া স্ট্যান্ড থেকে ৫০ থেকে ৬০ টাকা হতে পারে) |

| সময় | ঢাকা থেকে প্রায় ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা |

সকালে রওনা দিলে দুপুরের আগেই পৌঁছে যাবেন, আর বিকেলের মধ্যে ঘুরে ফেরা যায়। বাড়ির আশপাশে ভালো খাবারের ব্যবস্থা সীমিত বলে অনেকেই ফেরার পথে বা মানিকগঞ্জ শহরে খেয়ে নেন — সেভাবেই পরিকল্পনা করুন।

ভেতরে কী কী দেখবেন

প্রথমে মূল ফটক আর সিংহমূর্তি, তারপর প্রশস্ত উঠোন। চারটি প্রধান ভবন, অন্দরমহল, আর পেছনের পুকুর — প্রতিটা অংশেই চুন-সুরকি আর লোহার কাজের পুরনো কারুকাজ চোখে পড়ে। দেয়াল প্রায় ২০ ইঞ্চি পুরু বলে লেখা আছে, আর প্রতিটা কক্ষেই সুনিপুণ কাজ। সব কক্ষ খোলা থাকে না, তাই যে অংশগুলো খোলা, সেগুলোই ধীরে ধীরে দেখুন। জাদুঘরের জিনিস ছুঁয়ে দেখবেন না, ছবি তোলার নিয়ম গেটে জেনে নিন।

বালিয়াটি প্রাসাদের আরেক দিক
বালিয়াটি প্রাসাদের আরেক দিক

ছবি: বালিয়াটি প্রাসাদ — Nahid Sultan, CC BY-SA 3.0, Wikimedia Commons

ফেরার পথে আর একটা জায়গা

হাতে সময় থাকলে ফেরার পথে নবীনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ দেখে আসতে পারেন। সকালে বালিয়াটি, দুপুরে খাওয়া, বিকেলে স্মৃতিসৌধ — এই কম্বিনেশনটা ঢাকা থেকে একদিনের ট্রিপের জন্য বেশ মানানসই। তবে স্মৃতিসৌধ যোগ করলে ফেরা সন্ধ্যা গড়িয়ে যেতে পারে, তাই বাসের শেষ সময় মাথায় রাখুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ঢাকা থেকে একদিনে ঘোরা যাবে?

হ্যাঁ, খুব সহজেই। সকালে গাবতলী থেকে বাসে গিয়ে দুপুরের মধ্যে ঘুরে বিকেলে ফেরা যায়।

Baliati Zamindar Bari-র টিকিট আসলে কত?

সূত্রভেদ আছে — পুরনো তালিকায় ২০ টাকা, সাম্প্রতিক কিছু গাইডে ৩০ টাকা। যাওয়ার দিন কাউন্টারের দামই চূড়ান্ত, বাজেটে ৩০ টাকা ধরে রাখুন।

রবিবার কি বালিয়াটি খোলা থাকে?

না, রবিবার পূর্ণদিবস বন্ধ। সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ, দুপুর ২টার পর খোলে। তাই শনি বা অন্য দিন বেছে নেওয়াই ভালো।

বালিয়াটিতে কয়টা কক্ষ আছে?

বিভিন্ন গাইডে সাতটি প্রাসাদে প্রায় ২০০টি কক্ষের কথা লেখা। সব কক্ষ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে না।

বাচ্চাদের নিয়ে যাওয়া যাবে?

হ্যাঁ, উঠোন আর বাগানে বাচ্চারা ভালো সময় কাটাবে। তবে পুরনো ভবনের সিঁড়ি আর পুকুরের ধারে তাদের চোখে চোখে রাখুন।

আরও ঘোরার আইডিয়া পেতে দেখুন বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন আর আমাদের আগের তাজহাট জমিদার বাড়ি গাইড।

ম্যাপে দেখুন, প্ল্যান করুন

জায়গার বিস্তারিত, যাওয়ার উপায় আর খরচ দেখুন, আর নিজের ট্রিপ সাজান।

M
MD Nayeem Hasanঅচেনা বাংলা-এর লেখক

আরও পড়ুন