যাত্রা ও খরচ

গজনী অবকাশে পরিবার নিয়ে একদিন — পাহাড়, লেক আর সীমান্তের নিয়ম

শেরপুরের গজনী অবকাশে পরিবার নিয়ে পিকনিকের সম্পূর্ণ গাইড — যাতায়াত, লেক, ওয়াচটাওয়ার আর সীমান্তের নিয়ম।

১ নভেম্বর ২০২৬· ৪ মিনিটে পড়া· MD Nayeem Hasan
গজনী অবকাশে পরিবার নিয়ে একদিন — পাহাড়, লেক আর সীমান্তের নিয়ম
এই লেখায়

ঢাকার ভিড় থেকে একদিনের জন্য পালিয়ে পাহাড়ের কোলে বসে থাকতে চাইলে শেরপুরের গজনী অবকাশ একটা দারুণ ঠিকানা। এখানে কোনো বড় শহরের হইচই নেই, আছে শাল-গজারি বন, একটা লেক, আর উত্তরে মেঘালয়ের পাহাড়ের আভাস। Gajni Obokash Sherpur নামে খুঁজলে অনেক ভিডিও পাবেন, কিন্তু পরিবার নিয়ে গেলে ঠিক কী কী মাথায় রাখতে হবে, সেটাই এই গাইডে গুছিয়ে দেওয়া হলো।

গজনী কোথায়, কেমন জায়গা

গজনী অবকাশ কেন্দ্র শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায়, গারো পাহাড়ের পাদদেশে, ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে। শেরপুর শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। জায়গাটা মূলত পিকনিক স্পট হিসেবে গড়ে উঠেছে — বড় মাঠ, বসার জায়গা, কৃত্রিম লেক, আর চারপাশে টিলা। বিভিন্ন লেখায় এর আয়তন প্রায় ৯০ একর বলে উল্লেখ আছে। শীতের মৌসুমে, নভেম্বর থেকে মার্চ, এখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ আসেন। নভেম্বরের এই সময়টা তাই গজনী যাওয়ার জন্য খুব ভালো।

গজনী অবকাশ, শেরপুর
গজনী অবকাশ, শেরপুর

ছবি: গজনী — MD. Shoriful Islam, CC BY-SA 3.0, Wikimedia Commons

পরিবার নিয়ে কী কী দেখবেন

প্রথমে লেকের ধারটা ঘুরে নিন। রঙধনু ব্রিজ নামে পরিচিত সেতুটা ছবি তোলার জন্য জনপ্রিয়, লেকে নৌকায় চড়ার ব্যবস্থাও থাকে। এরপর ওয়াচটাওয়ারে উঠুন — পুরনো বর্ণনায় ৬০ ফুট উঁচু টাওয়ারের কথা আছে, সেখান থেকে মেঘালয়ের পাহাড়ের সারি দেখা যায় বলে লেখা। বাচ্চাদের জন্য মিনি চিড়িয়াখানা আর ক্যাকটাস পল্লীর মতো ছোট ছোট আকর্ষণ আছে, আর আছে পাতালপুরী নামের সুড়ঙ্গপথের কথা — ভেতরে ঢোকার আগে সেদিন সেটা খোলা আছে কি না জেনে নিন।

দুপুরে পিকনিকের দলগুলো সাধারণত নিজেদের রান্না বা বাইরে থেকে আনা খাবার খায়। ভেতরে খাবারের দোকান সীমিত হতে পারে, তাই পানি, শুকনো খাবার আর বাচ্চাদের জন্য বাড়তি খাবার সঙ্গে রাখুন। মাঠে বসার চাদর, ছাতা আর ময়লা ফেলার ব্যাগ নিতে ভুলবেন না — জায়গাটা পরিষ্কার রাখা আমাদেরই দায়িত্ব।

যাতায়াত আর খরচের ধারণা

| রুট | কেমন | মন্তব্য |

| ঢাকা থেকে শেরপুর বাস | মহাখালী থেকে শেরপুরের বাস | সকালের বাস ধরলে দিনের ট্রিপ সহজ হয় |

| শেরপুর থেকে গজনী | লোকাল বাস, সিএনজি বা রিজার্ভ গাড়ি | প্রায় ৩০ কিমি, ৪৫ মিনিটের মতো |

| ঢাকা থেকে সরাসরি গাড়ি | নিজের বা ভাড়া গাড়ি | সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টার মতো |

পুরনো গাইডে শেরপুর থেকে গজনীর বাসভাড়া ৫০ টাকা আর সিএনজি ২৫০ টাকার কথা লেখা আছে, আর গজনীর প্রবেশ ফি হিসেবে ১৫০ টাকার উল্লেখও আছে — কিন্তু এগুলো পুরনো তথ্য, এখন বদলে থাকতে পারে। তাই এই পোস্টে ভাড়া বা ফি চূড়ান্ত বলে ধরা হয়নি; যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে বা কাউন্টারে জেনে নিন। পরিবার নিয়ে দিনের ট্রিপে যাতায়াত আর খাওয়া মিলিয়ে জনপ্রতি আনুমানিক ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা ধরে রাখা যায়, গাড়ি রিজার্ভ করলে বেশি লাগবে।

সীমান্তের নিয়মটা সবচেয়ে জরুরি

গজনী সীমান্ত এলাকায়। পুরনো বর্ণনায় বলা আছে, ভেতরে ঢোকার পথে বিজিবি চেকপোস্টে নাম নথিভুক্ত করতে হয়, আর বিকেল ৫টার পর সেখানে থাকা যায় না। নিয়ম সময়ে সময়ে বদলাতে পারে, কিন্তু নীতিটা একই — সীমান্তের নির্দেশ মেনে চলুন, নিষিদ্ধ এলাকায় যাবেন না, আর বিকেলের আগেই ফেরার পরিকল্পনা রাখুন। সন্ধ্যা নামার আগেই শেরপুরের দিকে রওনা দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র রাখুন, বাচ্চাদের হাত ছাড়বেন না।

গজনী অবকাশের সবুজ টিলা
গজনী অবকাশের সবুজ টিলা

ছবি: গজনী অবকাশ — MD. Shoriful Islam, CC BY-SA 3.0, Wikimedia Commons

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

গজনী অবকাশ কখন যাওয়ার সেরা সময়?

নভেম্বর থেকে মার্চ — শীতের সময় আবহাওয়া আরামদায়ক, পিকনিকের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। বর্ষায় পথ পিচ্ছিল আর সবুজ হলেও ভিড় কম থাকে।

Gajni Obokash Sherpur-এ কি রাতে থাকা যায়?

সীমান্ত এলাকা বলে রাতে থাকার নিয়ম কঠোর। পুরনো তথ্যে বিকেল ৫টার পর থাকা যায় না বলে লেখা। তাই দিনের ট্রিপ হিসেবেই পরিকল্পনা করুন, রাতে থাকতে চাইলে শেরপুর শহরে থাকুন।

বাচ্চাদের নিয়ে গজনী কি নিরাপদ?

দিনের আলোয়, পরিবারের সঙ্গে, সীমান্তের নির্দেশ মেনে চললে হ্যাঁ। লেকের ধারে আর টাওয়ারে ওঠার সময় বাচ্চাদের চোখে চোখে রাখুন।

গজনীতে খাবার পাওয়া যায়?

ভেতরে সীমিত দোকান থাকতে পারে, কিন্তু পরিবার নিয়ে গেলে নিজেদের খাবার আর পানি সঙ্গে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। শেরপুর শহর থেকে খাবার কিনে নিতে পারেন।

শেরপুর থেকে গজনী যেতে কতক্ষণ লাগে?

প্রায় ৩০ কিলোমিটার, সাধারণত ৪৫ মিনিটের মতো। রাস্তা ভালো, তবে সকাল সকাল রওনা দিলে ফেরার সময় হাতে থাকে।

আরও ঘোরার আইডিয়া পেতে দেখুন বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখুন আর আমাদের আগের বিরিশিরি ভ্রমণ গাইড।

ম্যাপে দেখুন, প্ল্যান করুন

জায়গার বিস্তারিত, যাওয়ার উপায় আর খরচ দেখুন, আর নিজের ট্রিপ সাজান।

M
MD Nayeem Hasanঅচেনা বাংলা-এর লেখক

আরও পড়ুন