স্পট গাইড

গুঠিয়া মসজিদ আর দুর্গাসাগর — বরিশালের একদিনের স্থাপত্য ভ্রমণ গাইড

গুঠিয়া মসজিদ আর দুর্গাসাগর — বরিশাল থেকে একদিনের স্থাপত্য ভ্রমণের রুট, ইতিহাস আর খরচ।

৩১ অক্টোবর ২০২৬· ৮ মিনিটে পড়া· MD Nayeem Hasan
Guthia Mosque
Abdulmominbd, CC BY-SA 4.0
এই লেখায়

বরিশাল শহরকে কেন্দ্র করে একদিনে ঘুরে আসা যায় এমন দুটি জায়গার নাম গুঠিয়া মসজিদ আর দুর্গাসাগর। প্রথমটা আধুনিক স্থাপত্যের বিস্ময়, দ্বিতীয়টা আড়াই শ বছরের পুরোনো দিঘি। সকালে বরিশাল শহর থেকে বেরিয়ে দুপুরের মধ্যে মসজিদ দেখে, বিকেলে দুর্গাসাগরের পাড়ে বসে দিনটা শেষ করা যায়। এই গাইডে Guthia mosjid দেখার ক্রম, দুর্গাসাগরের ইতিহাস আর যাতায়াত ও খরচের ধারণা একসাথে দেওয়া হলো।

প্রথমে চোখে যা পড়ে — সাদা মার্বেলের বিশাল কমপ্লেক্স

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে বায়তুল আমান জামে মসজিদ, যাকে সবাই গুঠিয়া মসজিদ নামেই চেনে। দূর থেকে প্রথমে চোখে পড়ে সাদা মিনার আর সারি সারি গম্বুজ। কাছে গেলে বোঝা যায়, এটা শুধু একটা নামাজের ঘর নয়, পুরো একটা কমপ্লেক্স। প্রায় ১৪ একর জমির উপর ছড়িয়ে আছে মসজিদ, বিশাল ঈদগাহ ময়দান, পুকুর আর লেক, ফুলের বাগান, এতিমখানা, মাদ্রাসা, ডাকবাংলো আর গাড়ি পার্কিং।

মসজিদ ভবনে আছে ২০টি গম্বুজ। ভেতরে একসাথে প্রায় ১৫০০ মানুষ নামাজ পড়তে পারেন, বাইরের চত্বরে আরও কয়েক হাজার। ঈদগাহ ময়দানের ধারণক্ষমতা ২০ হাজারের বেশি বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ আছে। আর মিনারটির উচ্চতা প্রায় ৫৮ মিটার, অর্থাৎ ১৯৩ ফুটের কাছাকাছি। বাংলাদেশের অন্যতম উঁচু মিনার হিসেবেই এটি পরিচিত।

গুঠিয়া মসজিদ, বরিশাল
গুঠিয়া মসজিদ, বরিশাল

ছবি: Md Shaifuzzaman Ayon, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

স্থাপত্যের গল্প — মধ্যপ্রাচ্যের ছাপ, নিজের চেহারা

গুঠিয়া মসজিদের নির্মাণ শুরু হয় ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর, শেষ হয় ২০০৬ সালে। উদ্যোগটা ছিল ব্যক্তিগত। গুঠিয়ার বাসিন্দা এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু নিজ বাড়ির সামনের জমিতে এই মসজিদ-ঈদগাহ কমপ্লেক্স গড়ে তোলেন। নকশা করেন স্থপতি এম. আমিনুল হক। নির্মাণ ব্যয় তখনকার হিসাবে প্রায় ২০ কোটি টাকা বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

স্থাপত্যের অনুপ্রেরণা এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের বিখ্যাত মসজিদগুলো থেকে। প্রতিষ্ঠাতা আর স্থপতিরা সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, সৌদি আরব, ভারত ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মসজিদ দেখে এসেছিলেন। কিন্তু গুঠিয়া মসজিদ কোনো একটা মসজিদের হুবহু নকল নয়। সাদা মার্বেল, রঙিন কাচ, গ্রানাইট আর সিরামিকের কাজ মিলে এর নিজস্ব একটা চেহারা দাঁড়িয়েছে।

ভেতরের কাজটা সবচেয়ে মনোযোগ দিয়ে দেখার মতো। কেন্দ্রীয় গম্বুজের চারপাশে গোল করে লেখা আয়াতুল কুরসি, আর ভেতরের দেয়ালে সূরা আর-রহমানের ক্যালিগ্রাফি। এই কাজ করেছেন বরিশালের শিল্পী আরিফুর রহমান, সহযোগী ছিলেন ক্যালিগ্রাফার বশির মেসবাহ। আলো যখন কাচের উপর পড়ে, তখন ভেতরটা একেবারে অন্যরকম দেখায়। যারা স্থাপত্য ভালোবাসেন, তারা শুধু এই ক্যালিগ্রাফি আর আলো-ছায়ার খেলাটা দেখতেই এখানে আসতে পারেন।

প্রবেশপথের ডান দিকে বড় পুকুর, শান বাঁধানো ঘাট, পাড়জুড়ে সারি সারি নারিকেল গাছ। পুকুরের পানিতে মসজিদের প্রতিচ্ছবি পড়ে, আর সেই প্রতিচ্ছবিই অনেকের প্রিয় ছবির ফ্রেম। কমপ্লেক্সের চারপাশে তিনটি লেক আছে, যেগুলো এমনভাবে বসানো যাতে বিভিন্ন কোণ থেকে মসজিদের প্রতিফলন দেখা যায়। তাই ছবি তুলতে চাইলে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে না থেকে পুকুরের পাড় ধরে হেঁটে কয়েকটা কোণ থেকে দেখুন। সন্ধ্যার পর আলো জ্বলে উঠলে মসজিদের চেহারা আরও বদলে যায়, এজন্য অনেকেই বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়টা বেছে নেন।

মসজিদ দেখার সময় কয়েকটা শিষ্টাচার মনে রাখা ভালো। এটা সক্রিয় উপাসনালয়, তাই শালীন পোশাক পরুন, নামাজের সময় ভেতরে হইচই করবেন না, ছবি তোলার আগে আশপাশের মানুষের অসুবিধা হচ্ছে কি না খেয়াল করুন। জুতা রাখার ব্যবস্থা আর ভেতরে ঢোকার নিয়ম স্থানীয়ভাবে জেনে নেওয়াই নিরাপদ।

দুর্গাসাগর দিঘি — আড়াই শ বছরের জল আর সবুজ

গুঠিয়া মসজিদ দেখার পরের গন্তব্য দুর্গাসাগর দিঘি। বরিশাল শহর থেকে প্রায় ১১ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে, স্বরূপকাঠি-বরিশাল সড়কের পাশে মাধবপাশায় এই দিঘি। স্থানীয়ভাবে এটি মাধবপাশা দিঘি নামেও পরিচিত। শুধু জলাভূমির আয়তন প্রায় ২৭ একর, পাড় আর আশপাশের জমিসহ মোট আয়তন প্রায় ৪৫ একরের বেশি। দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম দিঘিগুলোর একটি হিসেবে এর নাম আসে।

দিঘির ইতিহাস ১৭৮০ সালের। চন্দ্রদ্বীপের রাজা শিব নারায়ণ এলাকাবাসীর পানির সংকট মেটাতে এই বিশাল দিঘি খনন করেন। নামকরণ নিয়ে সূত্রভেদ আছে। কোনো সূত্রে বলা হয়েছে তার স্ত্রী দুর্গামতির নামে, কোনো সূত্রে মা দুর্গা দেবীর নামে। ১৯৭৪ সালে সরকারি উদ্যোগে দিঘিটি পুনরায় সংস্কার করা হয়। এখন বরিশাল জেলা প্রশাসন দিঘির তত্ত্বাবধান করে।

দিঘির চারপাশ উঁচু সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা, ঢোকার জন্য গেট আছে। তিন দিকে তিনটি ঘাটলা, আর ঠিক মাঝখানে জঙ্গলঘেরা ছোট একটা দ্বীপ। পাড়জুড়ে নারিকেল, সুপারি, শিশু আর মেহগনি গাছের সারি, বসার বেঞ্চও আছে। বাতাস একটু জোরে বইলেই পানিতে ছোট ছোট ঢেউ ওঠে, আর তাতে গাছের ছায়া ভেসে ওঠে। এই দৃশ্যটাই দুর্গাসাগরের আসল সৌন্দর্য।

শীতকালে দুর্গাসাগর আরও জমজমাট হয়। তখন বালিহাঁস, সরাইলসহ কয়েক প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এখানে পবিত্র স্নানের জন্য জমায়েত হন। বছরের যেকোনো সময় যাওয়া যায়, তবে শীতের সকাল বা বিকেলের আলোয় দিঘির পাড়ে হাঁটা সবচেয়ে আরামদায়ক। দুর্গাসাগরের প্রবেশমূল্য সম্পর্কে পুরোনো গাইডে জনপ্রতি ২০ টাকার উল্লেখ আছে, তবে বর্তমান মূল্য যাওয়ার আগে যাচাই করুন।

দুর্গাসাগর দিঘি, মাধবপাশা, বরিশাল
দুর্গাসাগর দিঘি, মাধবপাশা, বরিশাল

ছবি: Mamunurrashidkazi, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

বরিশাল একদিনে ভ্রমণ — সাজানো রুট

বরিশাল একদিনে ভ্রমণ করতে চাইলে এই ক্রমটা কাজে দেবে। সকালে বরিশাল শহরে পৌঁছে প্রথমে দুর্গাসাগর দেখে নিলে দুপুরের রোদ এড়ানো যায়, অথবা সকালে গুঠিয়া মসজিদ দেখে বিকেলে দুর্গাসাগরেও যাওয়া যায়। দুটি জায়গা শহরের দুই দিকে, তাই মাঝে শহরে ফিরে খাওয়ার বিরতি রাখাই বাস্তবসম্মত।

একটা সম্ভাব্য দিনের ছক এমন হতে পারে। সকাল ৯টার দিকে শহর থেকে রওনা দিয়ে প্রথমে দুর্গাসাগর। পাড় ধরে হাঁটা, ঘাটে বসা আর ছবি তোলা মিলিয়ে ঘণ্টা দেড়েক। দুপুরে শহরে ফিরে খাওয়া। বিকেলে গুঠিয়া মসজিদের দিকে রওনা, সেখানে পুকুরের পাড়, ঈদগাহ ময়দান আর ভেতরের ক্যালিগ্রাফি দেখে সন্ধ্যার আলো পর্যন্ত থাকা। তারপর শহরে ফিরে রাতের লঞ্চ বা পরদিনের বাস ধরা।

যারা ঢাকা থেকে দিনের ট্রিপের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য আগের রাতের লঞ্চে বরিশাল পৌঁছে সারাদিন ঘুরে রাতের লঞ্চে ফেরা একটা চেনা ছক। তবে লঞ্চের সময় আর টিকিটের অবস্থা যাত্রার দিন যাচাই করে নেওয়া জরুরি, কারণ সার্ভিস আর সময় বদলাতে পারে। বাসে গেলে পদ্মা সেতু হয়ে বরিশাল পৌঁছাতে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা লাগে বলে বিভিন্ন গাইডে উল্লেখ আছে, তবে জ্যাম আর কাউন্টারের উপর নির্ভর করে সময় বাড়তে পারে।

গুঠিয়া মসজিদ যাওয়ার উপায় আর বরিশাল খরচ

গুঠিয়া মসজিদ বরিশাল শহর থেকে বানারীপাড়া সড়ক ধরে উজিরপুরের দিকে। দূরত্ব নিয়ে সূত্রভেদ আছে। ২০২৬ সালের বাসস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে প্রায় ২২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, আর পুরোনো ভ্রমণ গাইডগুলোতে ১১ কিলোমিটারের উল্লেখ আছে। যাতায়াতের সময় বরাদ্দ রাখার সময় দীর্ঘ দূরত্বটাই ধরে রাখা নিরাপদ। শহর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা রিজার্ভ করে যাওয়া সবচেয়ে সহজ, বাসেও চাখারগামী বাসে দুর্গাসাগরের সামনে নামা যায় বলে গাইডগুলোতে বলা হয়েছে।

দুর্গাসাগর যেতে শহর থেকে চাখারগামী বাসে দিঘির সামনে নামা যায়, আবার লঞ্চঘাট থেকে ব্যাটারিচালিত লেগুনা বা সিএনজি রিজার্ভ করেও যাওয়া যায়। দুটি জায়গার জন্যই স্থানীয় ভাড়া দরদাম করে ঠিক করে নেওয়া ভালো, কারণ রিজার্ভ ভাড়া সময় আর মৌসুমভেদে বদলায়।

রুট ও খরচের ধারণাবিবরণমনে রাখবেন
ঢাকা থেকে বরিশাল, বাসেপ্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা, নন-এসি আর এসি দুই ধরনের বাস চলেভাড়া অপারেটর আর আসনভেদে বদলায়, যাওয়ার আগে যাচাই করুন
ঢাকা থেকে বরিশাল, লঞ্চেসদরঘাট থেকে রাতে ছেড়ে ভোরে বরিশাল পৌঁছায়ডেক, সোফা আর কেবিনের ভাড়া আলাদা, সূত্রভেদে ডেক প্রায় ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা দেখা যায়, যাওয়ার আগে যাচাই করুন
বরিশাল শহর থেকে গুঠিয়া মসজিদবানারীপাড়া সড়ক ধরে উজিরপুরের দিকে, সিএনজি বা অটোরিকশাদূরত্ব নিয়ে সূত্রভেদ আছে, ১১ থেকে ২২ কিলোমিটার উল্লেখ পাওয়া যায়
বরিশাল শহর থেকে দুর্গাসাগরস্বরূপকাঠি-বরিশাল সড়কে মাধবপাশা, প্রায় ১১ থেকে ১২ কিলোমিটারচাখারগামী বাসে দিঘির সামনে নামা যায়, সিএনজি রিজার্ভও চলে
দুর্গাসাগর প্রবেশপুরোনো গাইডে জনপ্রতি ২০ টাকার উল্লেখ আছেবর্তমান মূল্য যাওয়ার আগে যাচাই করুন
একদিনের আনুমানিক খরচশহরের ভেতরে যাতায়াত, খাওয়া আর প্রবেশ মিলিয়ে মাঝারি বাজেটঢাকা থেকে যাতায়াতের ভাড়া এর বাইরে, সেটা আলাদা করে ধরুন

বরিশাল খরচ নিয়ে একটা কথা পরিষ্কার রাখা ভালো। এই গাইডের টেবিলে যেসব ভাড়া দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া ধারণা, অফিসিয়াল কাউন্টারের হালনাগাদ তালিকা নয়। লঞ্চ আর বাসের ভাড়া মৌসুম, আসনের ধরন আর অপারেটরভেদে বদলায়। তাই বাজেট করার সময় কিছুটা হাতে রেখে, আর যাত্রার আগে কাউন্টার বা অপারেটরের কাছে ভাড়া যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

কখন যাবেন, কী নেবেন

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, শীতের সময়টা বরিশাল ঘোরার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। গরম কম থাকে, দুর্গাসাগরে অতিথি পাখি দেখার সুযোগও থাকে। বর্ষায় চারপাশ সবুজ হয়, তবে যাতায়াতে বৃষ্টির কথা মাথায় রাখতে হবে।

সাথে রাখুন পানির বোতল, হালকা ছাতা বা রোদচশমা, পাওয়ার ব্যাংক আর মসজিদের জন্য শালীন পোশাক। দুর্গাসাগরের পাড়ে হাঁটার জন্য আরামদায়ক জুতা ভালো। দুপুরের খাবারের জন্য বরিশাল শহরে ফেরাই সুবিধাজনক, কারণ দুটি স্পটের আশপাশে বড় খাবারের ব্যবস্থা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য যাচাই করা যায়নি।

বরিশালের আরও জায়গা ঘুরতে চাইলে অচেনা বাংলার এক্সপ্লোর পাতা থেকে পরের গন্তব্য বেছে নিতে পারেন। আর পুরোনো স্থাপত্যের আরেকটা গাইড পড়তে চাইলে ষাট গম্বুজ মসজিদ ভ্রমণ গাইড দেখুন, সেখানে সুলতানি আমলের ইটের স্থাপত্যের সাথে এই আধুনিক মসজিদের তুলনাটা নিজেই ধরা দেবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: গুঠিয়া মসজিদ কোথায় অবস্থিত উত্তর: বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে। এর আসল নাম বায়তুল আমান জামে মসজিদ কমপ্লেক্স, তবে গুঠিয়া মসজিদ নামেই এটি বেশি পরিচিত।

প্রশ্ন: Guthia mosjid দেখতে কত সময় লাগে উত্তর: শুধু মসজিদ আর কমপ্লেক্স ঘুরে দেখতে ঘণ্টা দুয়েক রাখা ভালো। পুকুরের পাড়, ঈদগাহ ময়দান আর ভেতরের ক্যালিগ্রাফি ধীরে দেখলে সময়টা সহজেই কেটে যায়, সন্ধ্যার আলো দেখতে চাইলে আরও কিছুটা সময় হাতে রাখুন।

প্রশ্ন: গুঠিয়া মসজিদ আর দুর্গাসাগর কি একদিনে ঘোরা যায় উত্তর: হ্যাঁ, বরিশাল শহরকে কেন্দ্র করে একদিনেই দুটি জায়গা ঘোরা যায়। সকালে একটা, বিকেলে আরেকটা দেখার ছকই সবচেয়ে আরামদায়ক, মাঝে শহরে খাওয়ার বিরতি রাখুন।

প্রশ্ন: দুর্গাসাগর দিঘির ইতিহাস কী উত্তর: ১৭৮০ সালে চন্দ্রদ্বীপের রাজা শিব নারায়ণ এলাকাবাসীর পানির সংকট মেটাতে এই দিঘি খনন করেন। নামকরণ নিয়ে সূত্রভেদ আছে, তবে দিঘিটি আড়াই শ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক জলাশয় হিসেবে পরিচিত।

প্রশ্ন: বরিশাল থেকে গুঠিয়া মসজিদ যাওয়ার উপায় কী উত্তর: বরিশাল শহর থেকে বানারীপাড়া সড়ক ধরে সিএনজি বা অটোরিকশা রিজার্ভ করে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে প্রথমে বাস বা লঞ্চে বরিশাল শহরে পৌঁছাতে হবে, তারপর স্থানীয় যানবাহনে গুঠিয়া যেতে হবে।

প্রশ্নোত্তর

গুঠিয়া মসজিদ কোথায় অবস্থিত

বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে। এর আসল নাম বায়তুল আমান জামে মসজিদ কমপ্লেক্স, তবে গুঠিয়া মসজিদ নামেই এটি বেশি পরিচিত।

Guthia mosjid দেখতে কত সময় লাগে

শুধু মসজিদ আর কমপ্লেক্স ঘুরে দেখতে ঘণ্টা দুয়েক রাখা ভালো। পুকুরের পাড়, ঈদগাহ ময়দান আর ভেতরের ক্যালিগ্রাফি ধীরে দেখলে সময়টা সহজেই কেটে যায়, সন্ধ্যার আলো দেখতে চাইলে আরও কিছুটা সময় হাতে রাখুন।

গুঠিয়া মসজিদ আর দুর্গাসাগর কি একদিনে ঘোরা যায়

হ্যাঁ, বরিশাল শহরকে কেন্দ্র করে একদিনেই দুটি জায়গা ঘোরা যায়। সকালে একটা, বিকেলে আরেকটা দেখার ছকই সবচেয়ে আরামদায়ক, মাঝে শহরে খাওয়ার বিরতি রাখুন।

দুর্গাসাগর দিঘির ইতিহাস কী

১৭৮০ সালে চন্দ্রদ্বীপের রাজা শিব নারায়ণ এলাকাবাসীর পানির সংকট মেটাতে এই দিঘি খনন করেন। নামকরণ নিয়ে সূত্রভেদ আছে, তবে দিঘিটি আড়াই শ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক জলাশয় হিসেবে পরিচিত।

বরিশাল থেকে গুঠিয়া মসজিদ যাওয়ার উপায় কী

বরিশাল শহর থেকে বানারীপাড়া সড়ক ধরে সিএনজি বা অটোরিকশা রিজার্ভ করে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে প্রথমে বাস বা লঞ্চে বরিশাল শহরে পৌঁছাতে হবে, তারপর স্থানীয় যানবাহনে গুঠিয়া যেতে হবে।

ম্যাপে দেখুন, প্ল্যান করুন

জায়গার বিস্তারিত, যাওয়ার উপায় আর খরচ দেখুন, আর নিজের ট্রিপ সাজান।

M
MD Nayeem Hasanঅচেনা বাংলা-এর লেখক

আরও পড়ুন