এই লেখায়
হাম হাম ঝরনা ভ্রমণ গাইড (ham ham jhorna vromon guide) পড়ার আগে একটা সত্যি কথা মেনে নিন — এটা পিকনিক স্পট নয়, এটা ট্রেক। রাজকান্দি সংরক্ষিত বনের ভেতরে, প্রায় ১৩৫–১৬০ ফুট উঁচু এই ঝরনায় পৌঁছাতে কলাবনপাড়া থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার হাঁটতে হয়, পাহাড়-ঝিরি পেরিয়ে। যারা হাঁটতে প্রস্তুত, তাদের জন্য এটা বাংলাদেশের সেরা অ্যাডভেঞ্চারগুলোর একটা; যারা হালকা ঘোরাঘুরি চান, তাদের জন্য নয়।
হাম হাম কোথায়, কবে আবিষ্কার
হাম হাম ঝরনা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি বনে। স্থানীয়রা একে চিতা ঝরনাও বলেন। আবিষ্কার নিয়ে সূত্রভেদ আছে — ২০০৯ বা ২০১০ সালে পর্যটকদের একটি দল স্থানীয় গাইডের সঙ্গে গিয়ে ঝরনাটি সামনে আনে বলে বলা হয়। উচ্চতা নিয়েও একমত নেই, ১৩৫ থেকে ১৬০ ফুটের মধ্যে বিভিন্ন অঙ্ক পাওয়া যায়। সরকারিভাবে এখানে যাওয়ার কোনো তৈরি রাস্তা বা অবকাঠামো নেই — তাই স্থানীয় গাইড ছাড়া যাওয়া ঠিক নয়।

ছবি: হাম হাম ঝরনা, Mahmudfahmi, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons
নিজেকে যাচাই করুন — যাবেন কি যাবেন না
যাওয়ার আগে নিজেকে এই প্রশ্নগুলো করুন। একটাতেও "না" হলে এবার না গিয়ে আগে প্রস্তুতি নিন।
- টানা ২–৩ ঘণ্টা পাহাড়ি-পিচ্ছিল পথে হাঁটতে পারবেন তো?
- পানিতে হাঁটা, জোঁক, কাদা — এগুলোতে ভয় পেলে কি সামলাতে পারবেন?
- সকাল ৬–৭টায় রওনা দিতে পারবেন তো? দেরি করে রওনা দিলে ফেরার পথে অন্ধকার হয়ে যাবে।
- বাচ্চা বা বয়স্ক কেউ সঙ্গে থাকলে তাদের জন্য এই পথ কি নিরাপদ? সাধারণত ছোট বাচ্চা আর হাঁটতে কষ্ট হয় এমন বয়স্কদের জন্য এই ট্রেক সুপারিশ করা হয় না।
- পানি, শুকনো খাবার, স্যালাইন, প্রাথমিক চিকিৎসার জিনিস সঙ্গে নিচ্ছেন তো?
ঝিরি পথ বনাম পাহাড়ি পথ
| বিষয় | ঝিরি পথ | পাহাড়ি পথ |
|---|---|---|
| পথের ধরন | ঝিরির পানিতে হেঁটে, গোড়ালি থেকে ঊরু পর্যন্ত পানি | পাহাড়ের ওপর দিয়ে শুকনো পথ |
| সময় | বেশি লাগে | তুলনায় কম |
| দৃশ্য | ঝিরি, পাথর, জঙ্গলের কাছাকাছি অভিজ্ঞতা | ওপর থেকে বনের দৃশ্য |
| ঝুঁকি | পিচ্ছিল পাথর, পানির স্রোত | চড়াই, পিচ্ছিল মাটি |
| কার জন্য | যারা পানিতে হাঁটতে স্বচ্ছন্দ | যারা শুকনো পথে হাঁটতে চান |

ছবি: হাম হামের ঝিরি পথ, ANKAN, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons
যাওয়ার উপায় ও খরচ (আনুমানিক)
ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল, তারপর সিএনজি বা চান্দের গাড়িতে কলাবনপাড়া (চাম্পারা চা বাগান হয়ে)। সেখান থেকে ট্রেক শুরু।
| খাত | আনুমানিক খরচ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| শ্রীমঙ্গল → কলাবনপাড়া, সিএনজি দিনভর | প্রায় ১,৫০০–২,০০০ টাকা | দরদাম করে নিন |
| চান্দের গাড়ি দিনভর | প্রায় ৩,০০০–৪,০০০ টাকা | দল বড় হলে সুবিধা |
| স্থানীয় গাইড | সূত্রভেদে ২০০–৩০০ থেকে ১,০০০–১,৫০০ টাকা | গ্রামে/গেটে যাচাই করুন, এক অঙ্ক নয় |
| বাঁশের লাঠি | প্রায় ৫ টাকা | পথে কাজে লাগে |
কোনো গাইডের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর এই পোস্টে দেওয়া হয়নি — কলাবনপাড়ায় গিয়ে স্থানীয়ভাবে গাইড ঠিক করুন।
নভেম্বরে পানি কেমন
সৎ কথা: ঝরনার ভরা রূপ বর্ষায়। নভেম্বরে পানি কম থাকবে — "এখন ভরা ঝরনা" বলে কেউ দাবি করলে বিশ্বাস করবেন না। তবে বর্ষা-পরবর্তী সময়ের সুবিধাও আছে — পথ তুলনায় কম পিচ্ছিল, জোঁকের উপদ্রব কম। ঝরনার কাছে রাতে থাকার ব্যবস্থা নেই, তাই এটা দিনের ট্রিপ — সকাল ৬–৭টায় রওনা দিয়ে দিনের আলো থাকতে ফিরে আসুন। লাউয়াছড়ার মতো সহজ বন-হাঁটার অভিজ্ঞতা চাইলে আমাদের লাউয়াছড়া গাইডটা আগে পড়ে নিন। আরও জায়গা খুঁজতে অচেনা বাংলার এক্সপ্লোর পেজ দেখুন।
প্রশ্নোত্তর
হাম হামে যেতে কতক্ষণ হাঁটতে হয়?
কলাবনপাড়া থেকে একমুখী ২–৩ ঘণ্টা বলা হয়, কোনো সূত্রে যাওয়া-আসা মিলিয়ে ৪–৫ ঘণ্টা; সকাল সকাল রওনা দিন।
গাইড ছাড়া যাওয়া যাবে?
না, স্থানীয় গাইড ছাড়া যাওয়া ঠিক নয়; বনে পথ গুলিয়ে যাওয়া আর নিরাপত্তার কারণেই গাইড জরুরি।
বাচ্চা বা বয়স্করা যেতে পারবে?
ছোট বাচ্চা আর হাঁটতে কষ্ট হয় এমন বয়স্কদের জন্য এই কঠিন ট্রেক সাধারণত সুপারিশ করা হয় না।
নভেম্বরে পানি কেমন থাকে?
বর্ষার চেয়ে কম; ভরা রূপ নয়, তবে পথ শুকনো আর জোঁক কম থাকে।
হাম হাম ঝরনা ভ্রমণ গাইড (ham ham jhorna vromon guide) অনুযায়ী কী কী সঙ্গে নিতেই হবে?
পানি, শুকনো খাবার, স্যালাইন, বাঁশের লাঠি, বাড়তি জামা-জুতো আর প্রাথমিক চিকিৎসার জিনিস।
আরও পড়ুন ও দেখুন
ম্যাপে দেখুন, প্ল্যান করুন
জায়গার বিস্তারিত, যাওয়ার উপায় আর খরচ দেখুন, আর নিজের ট্রিপ সাজান।



