স্পট গাইড

নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার আগে যা জানতেই হবে — লঞ্চ, জোয়ার আর থাকার গাইড

নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার আগে জানুন — লঞ্চ রুট, জোয়ার-সতর্কতা, থাকা, হরিণ দেখা আর খরচের গাইড।

৩১ অক্টোবর ২০২৬· ৯ মিনিটে পড়া· MD Nayeem Hasan
Nijhum Dwip
Md Saiful Islam Khan, CC BY-SA
এই লেখায়

নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার আগে যা জানতেই হবে — লঞ্চ, জোয়ার আর থাকার গাইড

নিঝুম দ্বীপ যেতে চাইলে মূল কথা একটাই — এটা এক বেলার ঘোরাঘুরি নয়, এটা একটা পরিকল্পিত যাত্রা। ঢাকা থেকে হাতিয়া হয়ে নিঝুম দ্বীপ পৌঁছাতে অন্তত দুই দিন হাতে রাখুন, জোয়ার-ভাটার সময় মাথায় রাখুন, আর থাকার জায়গা আগে থেকে ঠিক করে যান। Nijhum dwip নামটা শুনলেই অনেকে ভাবেন শুধু একটা নির্জন সৈকত, কিন্তু আসলে এটা ম্যানগ্রোভ বন, চিত্রা হরিণ আর জেলেপাড়ার জীবন — সব মিলিয়ে একটা আলাদা জগৎ। এই গাইডে রুট, জোয়ার, থাকা আর খরচের ধারণা আগে দেওয়া হয়েছে, দেখার জায়গা পরে।

নিঝুম দ্বীপ কোথায়, কেন যাবেন

নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত, মেঘনা নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা একটি চর। একক কোনো দ্বীপ নয় — বল্লার চর, কামলার চর, চর ওসমান ও চর মুরিসহ কয়েকটি চর মিলে এই দ্বীপ। ২০০১ সালে এখানকার বনাঞ্চলকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। দ্বীপের মূল কেন্দ্র নামার বাজার, আর এখানেই থাকা-খাওয়ার বেশির ভাগ ব্যবস্থা।

এখানে যাওয়ার আসল কারণ তিনটি। প্রথমত, কেওড়া গাছের ম্যানগ্রোভ বন — সুন্দরবনের স্বাদ পাওয়া যায়, কিন্তু ভিড় নেই। দ্বিতীয়ত, চিত্রা হরিণ — ভোরে বা বিকেলে স্থানীয় গাইড নিয়ে গেলে হরিণের পাল দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তৃতীয়ত, শীতকালে অতিথি পাখি — সরালি, গাংচিল, পেলিক্যানসহ নানা প্রজাতির পাখি তখন দ্বীপে আসে। তবে একটা কথা পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো — নিঝুম দ্বীপ আরামদায়ক রিসোর্ট-ভ্রমণ নয়। বিদ্যুৎ, পানি আর যাতায়াত — সবকিছুই এখানে সীমিত। সেটা মেনে গেলেই দ্বীপটা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগবে।

নিঝুম দ্বীপের উপকূল ও ম্যানগ্রোভ এলাকা.jpg?width=800) ছবি: Md Saiful Islam Khan (Aopu), Wikimedia Commons, CC BY-SA লাইসেন্সে

নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার উপায় — দুইটি রুট

ঢাকা থেকে নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার মূলত দুইটি পথ আছে। একটা লঞ্চে সরাসরি হাতিয়া, আরেকটা বাস বা ট্রেনে নোয়াখালী হয়ে চেয়ারম্যান ঘাট দিয়ে। দুই রুটেই শেষ ধাপ এক — হাতিয়ার মোক্তারিয়া ঘাট থেকে নৌকায় নিঝুম দ্বীপ।

রুট ১ — ঢাকা সদরঘাট থেকে লঞ্চে হাতিয়া

এটাই সবচেয়ে সহজ রুট। ঢাকার সদরঘাট থেকে হাতিয়ার তমরদ্দি ঘাট পর্যন্ত রাতের লঞ্চ চলে। সকালে তমরদ্দি পৌঁছে সেখান থেকে মোটরসাইকেল বা অটোরিকশায় মোক্তারিয়া ঘাট, তারপর স্থানীয় নৌকা বা ট্রলারে নিঝুম দ্বীপের বন্দরটিলা ঘাট। বন্দরটিলা থেকে নামার বাজার যেতে আবার মোটরসাইকেল লাগে। এই রুটের সুবিধা হলো রাতের যাত্রায় এক ধাপ কমে যায়, আর লঞ্চে ঘুমিয়ে সকালে হাতিয়া পৌঁছানো যায়।

রুট ২ — বাস বা ট্রেনে সোনাপুর, তারপর চেয়ারম্যান ঘাট

ঢাকা থেকে বাসে নোয়াখালীর সোনাপুর, সেখান থেকে সিএনজিতে চেয়ারম্যান ঘাট। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে সি-ট্রাক, ট্রলার বা স্পিডবোটে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট। নলচিরা থেকে মোটরসাইকেল বা সিএনজিতে মোক্তারিয়া ঘাট, তারপর নৌকায় নিঝুম দ্বীপ। এই রুটে ধাপ বেশি, কিন্তু লঞ্চের সময় না মিললে এটাই বিকল্প। মনে রাখবেন, চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছাড়ার সময় জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে — ঘাটে পৌঁছে স্থানীয়দের কাছ থেকে সেদিনের সময় জেনে নেওয়াই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

ধাপরুট ১ — লঞ্চে হাতিয়ারুট ২ — সোনাপুর হয়ে চেয়ারম্যান ঘাট
ঢাকা থেকে প্রথম ধাপসদরঘাট থেকে রাতের লঞ্চে তমরদ্দি ঘাটবাসে সোনাপুর, সিএনজিতে চেয়ারম্যান ঘাট
হাতিয়ায় পৌঁছেমোটরসাইকেল/অটোতে মোক্তারিয়া ঘাটনলচিরা ঘাট থেকে মোটরসাইকেল/সিএনজিতে মোক্তারিয়া ঘাট
শেষ নৌপথমোক্তারিয়া থেকে নৌকায় বন্দরটিলা ঘাটমোক্তারিয়া থেকে নৌকায় বন্দরটিলা ঘাট
দ্বীপে পৌঁছেমোটরসাইকেলে নামার বাজারমোটরসাইকেলে নামার বাজার
মোট সময়ের ধারণাঢাকা থেকে দ্বীপ পর্যন্ত প্রায় দেড় দিনের যাত্রাএকই রকম, ধাপ বেশি বলে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে

নিঝুম দ্বীপ খরচ — আনুমানিক ধারণা

নিঝুম দ্বীপের খরচ নিয়ে অনলাইনে নানা সংখ্যা ঘোরে, আর সেগুলোর বেশির ভাগই পুরোনো। তাই এখানে কোনো একক অঙ্ককে চূড়ান্ত বলে দেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন ভ্রমণ গাইডে উল্লেখিত আনুমানিক ভাড়ার ধারণা নিচে দেওয়া হলো — যাওয়ার আগে ঘাটে বা সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছ থেকে যাচাই করে নিন, কারণ ভাড়া মৌসুম আর জ্বালানির দামের সঙ্গে বদলায়।

খাতআনুমানিক ধারণা (বিভিন্ন গাইড অনুযায়ী, যাচাই সাপেক্ষ)
ঢাকা–সোনাপুর বাস৪০০–৮০০ টাকা জনপ্রতি
সোনাপুর–চেয়ারম্যান ঘাট সিএনজি (রিজার্ভ)১০০–৫০০ টাকা, গাড়ি ভাগাভাগি হলে কম
চেয়ারম্যান ঘাট–নলচিরা সি-ট্রাক/ট্রলার৮০–১৫০ টাকা জনপ্রতি, স্পিডবোট ৪০০–৫০০ টাকা জনপ্রতি
হাতিয়ায় মোটরসাইকেল/অটোধাপভেদে ৭০–৮০০ টাকা, রিজার্ভ হলে বেশি
মোক্তারিয়া–নিঝুম নৌকা২০–৫০ টাকা জনপ্রতি
হরিণ দেখার ট্রলার (দলগত, রিজার্ভ)১০০০–১২০০ টাকা, ১০–১৫ জনের দলের জন্য

খাওয়া-দাওয়ার খরচ দ্বীপে খুব বেশি নয় — নামার বাজারের ছোট হোটেলগুলোতে মাছ-ভাত সুলভেই মেলে, বিশেষ করে টাটকা সামুদ্রিক মাছ। তবে মনে রাখবেন, দ্বীপে এটিএম বা কার্ড পেমেন্টের ভরসা নেই — যথেষ্ট নগদ টাকা সঙ্গে নিন, আর ফেরার নৌকার ভাড়াও আলাদা করে সরিয়ে রাখুন।

জোয়ার-ভাটা আর নিরাপত্তা — এই অংশটা ফাঁকি দেবেন না

নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জোয়ার-ভাটা। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে সি-ট্রাক ছাড়ার সময়, মোক্তারিয়া থেকে নৌকা পারাপার — সবই জোয়ারের উপর নির্ভর করে। ভাটার সময় খালের পানি কমে যায়, কোনো কোনো পথে নৌকা চলতেই পারে না। তাই যাত্রার দিন সকালে ঘাটের লোকজনের কাছ থেকে সেদিনের জোয়ারের সময় জেনে নিন, আর সেই অনুযায়ী বের হন। জোয়ার মিস করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে আটকে থাকতে হতে পারে — এটা এখানে স্বাভাবিক, রাগ করার কিছু নেই।

নিরাপত্তার কয়েকটি সৎ সতর্কতা। বর্ষাকালে (জুন–সেপ্টেম্বর) মেঘনা আর সাগর উত্তাল থাকে — এই সময় নিঝুম দ্বীপ এড়িয়ে চলাই ভালো। নৌকায় উঠলে লাইফ জ্যাকেট আছে কি না দেখে নিন, না থাকলে সেই নৌকায় উঠবেন না। সন্ধ্যার পর অচেনা বনের ভেতরে একা ঢুকবেন না, আর হরিণ দেখতে গেলে স্থানীয় গাইড সঙ্গে নিন — বনের পথ, খাল আর কাদা সম্পর্কে তারাই সবচেয়ে ভালো জানেন। মোবাইল নেটওয়ার্ক দ্বীপে দুর্বল হতে পারে, তাই পরিবারকে আগেই জানিয়ে যান কবে ফিরবেন, আর পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখুন।

নিঝুম দ্বীপ হোটেল — থাকার ব্যবস্থা কেমন

নিঝুম দ্বীপে বড় হোটেল বা বিলাসবহুল রিসোর্ট আশা করবেন না। থাকার ব্যবস্থা মূলত তিন রকম। প্রথমত, নামার বাজারের নিঝুম রিসোর্ট — অবকাশ পর্যটনের পরিচালনায়, ডাবল রুম আর ডরমিটরি মিলিয়ে সীমিত আসন, নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা আছে বলে জানা যায়। দ্বিতীয়ত, নামার বাজারের মসজিদ বোর্ডিংসহ স্থানীয় বোর্ডিং — সস্তা, কিন্তু এটাচ বাথরুম বা সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ আশা করা যাবে না। তৃতীয়ত, বন বিভাগ বা জেলা প্রশাসনের বাংলো — এগুলোতে থাকতে হলে আগেভাগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে।

যে ব্যবস্থাই নিন, শীতের মৌসুমে (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) আগে থেকে বুকিং করে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ তখন দর্শনার্থী বেশি আসেন আর ঘর কম। রুমের ভাড়া মৌসুমভেদে বদলায় — এই গাইডে কোনো নির্দিষ্ট ভাড়া চূড়ান্ত বলে দেওয়া হচ্ছে না, যাওয়ার আগে যাচাই করে নিন। সঙ্গে টর্চ, মশারি বা মশা তাড়ানোর ব্যবস্থা, আর শীতের হালকা গরম কাপড় রাখুন — দ্বীপে রাতে ঠান্ডা বাতাস বেশ লাগে।

নিঝুম দ্বীপ হরিণ আর দেখার জায়গা

থাকা আর যাতায়াত ঠিক হয়ে গেলে এবার দেখার পালা। হরিণ দেখার সেরা সময় ভোর আর বিকেল। চৌধুরীর খাল ধরে কবিরাজের চরের দিকে হাঁটলে, কিংবা চোয়াখালির দিকে ভোরে গেলে হরিণের পালের দেখা মেলার সম্ভাবনা বেশি। স্থানীয় ছোট গাইডরা সকালে হরিণ দেখিয়ে আনার কাজ করেন — তাদের সঙ্গে নিলে সময় বাঁচে, আর বনের ভেতরে পথ হারানোর ভয় থাকে না। হরিণ দেখতে গিয়ে চিৎকার করবেন না, ফ্ল্যাশ জ্বালাবেন না, আর বনের ভেতরে খাবারের প্যাকেট ফেলবেন না।

নামার বাজার থেকে হেঁটে মিনিট দশেকের পথে নামার বাজার সি বীচ — এখান থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়। সন্ধ্যায় কবিরাজের চরে মহিষের পাল ফিরতে দেখা আরেকটা মনে রাখার মতো দৃশ্য। হাতে সময় থাকলে ট্রলার রিজার্ভ নিয়ে কমলার দ্বীপ ঘুরে আসতে পারেন — এখানে টাটকা ইলিশ কেনার সুযোগ মেলে। আর শীতকালে পাখি দেখতে চাইলে কবিরাজের চর আর দমার চরের দিকে যান, ভোরের আলোয় পাখির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে।

নিঝুম দ্বীপের চর ও উপকূলীয় দৃশ্য.jpg?width=800) ছবি: Md Saiful Islam Khan (Aopu), Wikimedia Commons, CC BY-SA লাইসেন্সে

নিঝুম দ্বীপ সেরা সময় — কবে যাবেন, কবে নয়

নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার সেরা সময় অক্টোবর থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি। এর মধ্যে শীতকাল, অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, সবচেয়ে উপযুক্ত — আবহাওয়া শুকনো থাকে, রাস্তা চলাচলের উপযোগী থাকে, খালে পানি কম থাকে বলে বনের ভেতরে যাওয়া সহজ হয়, আর অতিথি পাখির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে। বর্ষাকালে দ্বীপে কাদা জমে, অনেক পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, আর সাগর উত্তাল থাকায় নৌপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই প্রথমবার যাচ্ছেন এমন ভ্রমণকারীদের জন্য শীতকালই সঠিক পছন্দ।

দুই দিনের সাজানো পরিকল্পনা

প্রথম দিন ঢাকা থেকে রওনা — লঞ্চে হাতিয়া বা বাসে সোনাপুর হয়ে চেয়ারম্যান ঘাট, তারপর হাতিয়া পেরিয়ে বিকেলের মধ্যে নিঝুম দ্বীপের নামার বাজার। সন্ধ্যায় নামার বাজার সি বীচে সূর্যাস্ত দেখে রাতটা দ্বীপেই কাটান। দ্বিতীয় দিন ভোরে গাইড নিয়ে হরিণ দেখতে বের হন, দুপুরে নামার বাজারে মাছ-ভাত খেয়ে বিকেলে কবিরাজের চর ঘুরে আসুন। তৃতীয় দিন সকালে জোয়ার মিলিয়ে ফেরার নৌকা ধরুন — ফেরার দিন কোনোভাবেই শেষ মুহূর্তের পরিকল্পনা রাখবেন না, কারণ জোয়ার মিস হলে ফেরা একদিন পিছিয়ে যেতে পারে। দুই রাত তিন দিনের এই ছকটাই নিঝুম দ্বীপের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।

কী কী সঙ্গে নেবেন

নগদ টাকা, পাওয়ার ব্যাংক, টর্চ, হালকা গরম কাপড়, মশা তাড়ানোর ব্যবস্থা, সানস্ক্রিন, আর পানির বোতল — এই তালিকাটা ছোট হলেও জরুরি। দ্বীপে কেনাকাটার সুযোগ সীমিত, তাই ওষুধ, শুকনো খাবার আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আগেই গুছিয়ে নিন। ক্যামেরা নিলে অতিরিক্ত ব্যাটারি আর মেমোরি কার্ড রাখুন, কারণ চার্জ দেওয়ার জায়গা সবসময় মিলবে না। আর সবচেয়ে জরুরি — ধৈর্য। নিঝুম দ্বীপে সবকিছু ঘড়ির কাঁটায় চলে না, জোয়ার আর আবহাওয়ার নিয়মে চলে। সেটা মেনে নিলেই যাত্রাটা আনন্দের হবে।

বাংলাদেশের আরও দ্বীপ ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে আমাদের সব ভ্রমণ গাইড ঘুরে দেখুন এবং সেন্টমার্টিনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পড়ুন সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

১। নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার উপায় কী? ঢাকা থেকে দুইভাবে যাওয়া যায় — সদরঘাট থেকে রাতের লঞ্চে হাতিয়ার তমরদ্দি ঘাট, অথবা বাসে সোনাপুর হয়ে চেয়ারম্যান ঘাট দিয়ে নলচিরা। দুই রুটেই শেষে হাতিয়ার মোক্তারিয়া ঘাট থেকে নৌকায় নিঝুম দ্বীপ যেতে হয়।

২। Nijhum dwip যাওয়ার সেরা সময় কোনটা? অক্টোবর থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি, বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি শীতকাল। এই সময় আবহাওয়া শুকনো থাকে, হরিণ দেখা সহজ হয় আর অতিথি পাখি আসে। বর্ষাকালে সাগর উত্তাল থাকায় যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

৩। নিঝুম দ্বীপে থাকার ব্যবস্থা কেমন? নামার বাজারে নিঝুম রিসোর্ট, স্থানীয় বোর্ডিং আর মসজিদ বোর্ডিং আছে। বন বিভাগ বা জেলা প্রশাসনের বাংলোতে থাকতে আগাম অনুমতি লাগে। শীতের মৌসুমে আগে থেকে বুকিং করে যাওয়া ভালো, ভাড়া যাওয়ার আগে যাচাই করে নিন।

৪। নিঝুম দ্বীপে হরিণ দেখার সেরা সময় কখন? ভোর আর বিকেল। চৌধুরীর খাল ধরে কবিরাজের চরের দিকে, কিংবা চোয়াখালির দিকে স্থানীয় গাইড নিয়ে গেলে হরিণের পাল দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

৫। হাতিয়া থেকে নিঝুম দ্বীপ যেতে কত সময় লাগে? হাতিয়ার মোক্তারিয়া ঘাট থেকে নৌকায় বন্দরটিলা ঘাট পর্যন্ত পারাপার অল্প সময়ের, কিন্তু তমরদ্দি বা নলচিরা থেকে মোক্তারিয়া পৌঁছাতে মোটরসাইকেল বা অটোতে এক ঘণ্টার বেশি লাগতে পারে। জোয়ারের উপর নির্ভর করে পুরো যাত্রায় বাড়তি অপেক্ষা ধরতে হবে।

প্রশ্নোত্তর

নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার উপায় কী?

ঢাকা থেকে দুইভাবে যাওয়া যায় — সদরঘাট থেকে রাতের লঞ্চে হাতিয়ার তমরদ্দি ঘাট, অথবা বাসে সোনাপুর হয়ে চেয়ারম্যান ঘাট দিয়ে নলচিরা। দুই রুটেই শেষে হাতিয়ার মোক্তারিয়া ঘাট থেকে নৌকায় নিঝুম দ্বীপ যেতে হয়।

Nijhum dwip যাওয়ার সেরা সময় কোনটা?

অক্টোবর থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি, বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি শীতকাল। এই সময় আবহাওয়া শুকনো থাকে, হরিণ দেখা সহজ হয় আর অতিথি পাখি আসে। বর্ষাকালে সাগর উত্তাল থাকায় যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

নিঝুম দ্বীপে থাকার ব্যবস্থা কেমন?

নামার বাজারে নিঝুম রিসোর্ট, স্থানীয় বোর্ডিং আর মসজিদ বোর্ডিং আছে। বন বিভাগ বা জেলা প্রশাসনের বাংলোতে থাকতে আগাম অনুমতি লাগে। শীতের মৌসুমে আগে থেকে বুকিং করে যাওয়া ভালো, ভাড়া যাওয়ার আগে যাচাই করে নিন।

নিঝুম দ্বীপে হরিণ দেখার সেরা সময় কখন?

ভোর আর বিকেল। চৌধুরীর খাল ধরে কবিরাজের চরের দিকে, কিংবা চোয়াখালির দিকে স্থানীয় গাইড নিয়ে গেলে হরিণের পাল দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

হাতিয়া থেকে নিঝুম দ্বীপ যেতে কত সময় লাগে?

হাতিয়ার মোক্তারিয়া ঘাট থেকে নৌকায় বন্দরটিলা ঘাট পর্যন্ত পারাপার অল্প সময়ের, কিন্তু তমরদ্দি বা নলচিরা থেকে মোক্তারিয়া পৌঁছাতে মোটরসাইকেল বা অটোতে এক ঘণ্টার বেশি লাগতে পারে। জোয়ারের উপর নির্ভর করে পুরো যাত্রায় বাড়তি অপেক্ষা ধরতে হবে।

ম্যাপে দেখুন, প্ল্যান করুন

জায়গার বিস্তারিত, যাওয়ার উপায় আর খরচ দেখুন, আর নিজের ট্রিপ সাজান।

M
MD Nayeem Hasanঅচেনা বাংলা-এর লেখক

আরও পড়ুন