সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড: জাহাজ, খরচ, সেরা সময় ও এবারের সর্বশেষ নিয়ম

সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ — কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে জাহাজে করে যেতে হয়, সময় লাগে আনুমানিক আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। তবে এই বছরের (২০২৬–২৭ মৌসুমের) জন্য একটা জরুরি কথা সবার আগে: সরকারি চূড়ান্ত ঘোষণা এখনো আসেনি, জাহাজ কবে থেকে চলবে আর রাত্রিযাপনের নিয়ম কী হবে, তা ঘোষণা এলেই জানা যাবে। গত মৌসুমে জাহাজ চলেছিল মূলত ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে, তাই পরিকল্পনা করার আগে এই লেখাটা পুরোটা পড়ে নিন, যাতে পুরনো তথ্যে বিভ্রান্ত না হন।
অনেকে এখনো মনে করেন সেন্টমার্টিন মানেই টেকনাফ থেকে জাহাজ আর নভেম্বর–মার্চ লম্বা মৌসুম। সেই দিন আর নেই। পরিবেশ রক্ষার কারণে এখন দ্বীপে যাওয়া কঠোর নিয়মের মধ্যে পড়ে — কবে যাওয়া যাবে, কতজন যেতে পারবে, রাতে থাকা যাবে কিনা, সবই মৌসুমভেদে সরকারি সিদ্ধান্তে ঠিক হয়। তাই সেন্টমার্টিনের পরিকল্পনা অন্য সব জায়গার চেয়ে আলাদা: আগে নিয়ম জানুন, তারপর টিকিট কাটুন।
সেন্টমার্টিন কেন এত বিশেষ?
বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের একদম দক্ষিণে, বঙ্গোপসাগরের বুকে মাত্র প্রায় আট বর্গকিলোমিটারের ছোট্ট এই দ্বীপ। কিন্তু আকারে ছোট হলেও এর রূপ দেশের আর কোনো সৈকতের সঙ্গে মেলে না। এখানকার পানি অনেক বেশি পরিষ্কার ও নীল, সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে আছে প্রবাল পাথর, আর চারদিকে সারি সারি নারকেল গাছ — স্থানীয়দের কাছে দ্বীপটার আরেক নাম তাই "নারকেল জিঞ্জিরা"। দ্বীপের সবচেয়ে সুন্দর অংশ পশ্চিম দিকের সৈকত — সূর্যাস্ত দেখার জন্য সেরা জায়গা। আর ভাটার সময় হেঁটে বা নৌকায় যাওয়া যায় ছেঁড়া দ্বীপে, যেখানে প্রবালের আসল রূপ কাছ থেকে দেখা যায়। শীতের সকালে দ্বীপের চারদিকে হাঁটতে হাঁটতে জেলেদের মাছ ধরা, শুঁটকি শুকানো আর গ্রামের সহজ জীবন দেখাটাও এই ভ্রমণের বড় অংশ। শহুরে কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, গাড়ির শব্দ নেই বললেই চলে — সেন্টমার্টিনে গেলে সময় যেন একটু ধীরে চলে।
এ বছর সেন্টমার্টিন কবে খুলবে? — সর্বশেষ অবস্থা
সবচেয়ে বেশি খোঁজা প্রশ্ন এটাই, তাই উত্তরটা পরিষ্কার করে দিই: এই লেখা প্রকাশের সময় (১৬ অক্টোবর ২০২৬) পর্যন্ত ২০২৬–২৭ মৌসুমের চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা আসেনি। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর যৌথ সভায় এবারের পর্যটকের সংখ্যা, ভ্রমণের সময়সীমা আর জাহাজ ছাড়ার জায়গা নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে — অর্থাৎ নিয়ম আগের মতোই থাকবে, নাকি কিছু বদলাবে, সেই সিদ্ধান্ত এখনো আসার বাকি। গত মৌসুমের (২০২৫–২৬) কাঠামোটা জানা থাকলে আন্দাজ পাওয়া সহজ হবে: পর্যটন খোলা ছিল নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত, ফেব্রুয়ারি থেকে আবার বন্ধ। নভেম্বরে শুধু দিনের ভ্রমণ — সকালে গিয়ে সন্ধ্যায় ফিরে আসা, রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ ছিল। রাতে থাকার সুযোগ ছিল শুধু ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে। দিনে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক যেতে পারতেন। আর বাস্তবে জাহাজ চলেছিল ১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি — নভেম্বরে অপারেটররা জাহাজ চালায়নি। এবারের মৌসুমেও কাছাকাছি কাঠামো আসতে পারে, তবে এটা নিশ্চিত ধরে নিয়ে টিকিট বা হোটেল বুকিং দেওয়া যাবে না। সরকারি ঘোষণা এলেই এই পোস্টটি আপডেট করে দেওয়া হবে। ভ্রমণের আগে অবশ্যই বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের পোর্টাল ও জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ ঘোষণা মিলিয়ে নেবেন।
সেন্টমার্টিন কীভাবে যাবেন?
যাত্রার দুটো ধাপ: প্রথমে কক্সবাজার পৌঁছানো, তারপর সেখান থেকে জাহাজে দ্বীপ। ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বাস, ট্রেন ও বিমান — তিনভাবেই যাওয়া যায় (সময়, ভাড়া আর হোটেলসহ বিস্তারিত হিসাব আমাদের কক্সবাজার ভ্রমণ গাইডে দেওয়া আছে)। জাহাজের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে আগের রাতে কক্সবাজারে পৌঁছে থাকাটাই সবচেয়ে নিরাপদ — ভোরের জাহাজ ধরতে হলে সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে কখনোই পৌঁছানো যাবে না। দ্বিতীয় ধাপে জাহাজ ছাড়ে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া BIWTA ঘাট থেকে। টেকনাফ রুট নিরাপত্তার কারণে বন্ধ, ইনানী থেকেও জাহাজ ছাড়ে না — পুরনো ব্লগ বা ভিডিওতে টেকনাফের কথা দেখলে সেটা পুরনো তথ্য বলে ধরে নিন। সাগরপথে সময় লাগে আনুমানিক আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। শীতকালে সাগর শান্ত থাকে, তবু যাদের নৌযাত্রায় বমি ভাব আছে, তারা ওষুধ সঙ্গে রাখুন। জাহাজের ছাড়ার তারিখ ও সময়সূচি সম্পূর্ণভাবে মৌসুমের সরকারি ঘোষণার ওপর নির্ভরশীল — ঘোষণা না এলে কোনো তারিখই নিশ্চিত নয়।
জাহাজের টিকিট ও ট্রাভেল পাস কীভাবে পাবেন?
গত মৌসুমের নিয়ম অনুযায়ী টিকিট কাটতে হয় বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের অনুমোদিত অনলাইন পোর্টাল থেকে। প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে ট্রাভেল পাস ও QR কোড বাধ্যতামূলক, আর যাচাই হয় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে — তাই টিকিট কাটার সময় প্রত্যেক যাত্রীর সঠিক তথ্য লাগবে, আর যাত্রার দিন পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। জাহাজে শুধু BIWTA ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত জাহাজই চলতে পারে। অননুমোদিত ট্রলার বা স্পিডবোটে দ্বীপে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না — এটা নিয়ম ভাঙা, বিপজ্জনকও। ভাড়া জাহাজ ও আসনের শ্রেণিভেদে আনুমানিক ১,৫০০–৩,৫০০ টাকা (যাওয়া-আসা মিলিয়ে) হতে পারে; তবে এবারের ভাড়া ঘোষণা সাপেক্ষে বদলাতে পারে, সব অঙ্কই আনুমানিক ধরে পরিকল্পনা করুন।
সেন্টমার্টিন ভ্রমণে মোট কত খরচ হতে পারে?
ঢাকা থেকে দুই দিনের (এক রাত দ্বীপে থাকা) হিসাবটা মোটামুটি এমন: ঢাকা–কক্সবাজার যাওয়া-আসা বাসে আনুমানিক ১,৮০০–৩,০০০ টাকা, জাহাজে যাওয়া-আসা ১,৫০০–৩,৫০০ টাকা, দ্বীপে এক রাতের থাকার ভাগ ১,০০০–২,৫০০ টাকা, খাওয়া-দাওয়া ১,২০০–২,০০০ টাকা, আর দ্বীপে ঘোরাঘুরি (ভ্যান/সাইকেল, ছেঁড়া দ্বীপের নৌকা) ৫০০–১,০০০ টাকা। সব মিলিয়ে জনপ্রতি আনুমানিক ৬,০০০–১২,০০০ টাকায় সেন্টমার্টিন ঘুরে আসা যায়। মনে রাখবেন, রাত্রিযাপন শুধু সেই মাসগুলোতেই সম্ভব, যেগুলোতে সরকার অনুমতি দেবে — দিনের ভ্রমণে গেলে থাকার খরচ বাদ যাবে, কিন্তু একই দিনে যাওয়া-আসার চাপটা বেশি হবে। দল বেঁধে গেলে রুম আর স্থানীয় যানবাহনের খরচ ভাগ হয়ে জনপ্রতি খরচ বেশ কমে আসে।
সেন্টমার্টিন যাওয়ার সেরা সময় কখন?
আবহাওয়ার দিক থেকে শীতকালই একমাত্র ভরসার সময় — সাগর শান্ত, আকাশ পরিষ্কার। তবে "সেরা সময়" এখানে শুধু আবহাওয়া দিয়ে ঠিক হয় না, সরকারি অনুমতির সময়টাই আসল সীমা। গত মৌসুমের অভিজ্ঞতা বলছে, বাস্তবে যাওয়া গিয়েছিল ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে। বর্ষা ও গ্রীষ্মে সাগর উত্তাল থাকে এবং পর্যটক যাতায়াতও বন্ধ থাকে — ওই সময় যাওয়ার কোনো পরিকল্পনাই করবেন না। একটা ব্যবহারিক পরামর্শ: ঘোষণা আসা মাত্রই টিকিটের চাহিদা হুড়মুড়িয়ে বেড়ে যায়, কারণ দিনে মাত্র নির্দিষ্টসংখ্যক পর্যটক যেতে পারেন। তাই ঘোষণার খবরে চোখ রাখুন, আর তারিখ ঠিক হলে দেরি না করে পোর্টালে টিকিট কেটে ফেলুন।
দ্বীপে কোথায় থাকবেন, কী খাবেন?
দ্বীপে ছোট-বড় অনেক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ আছে — পশ্চিম সৈকতের দিকে থাকলে রুমের কাছ থেকেই সূর্যাস্ত দেখা যায়। ভাড়া রুমপ্রতি আনুমানিক ১,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ভালো রিসোর্টে ৫,০০০–৮,০০০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, দ্বীপে বিদ্যুৎ সীমিত — অনেক জায়গায় জেনারেটর নির্দিষ্ট সময় চলে, গরম পানি বা এসি সব জায়গায় পাওয়া যায় না। বুকিংয়ের সময় এই বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করে নিন, তাহলে গিয়ে অবাক হতে হবে না। আর রাত্রিযাপন শুধু অনুমোদিত মাসেই — বুকিং দেওয়ার আগে এবারের নিয়ম নিশ্চিত হয়ে নিন। খাবারে দ্বীপের আসল আকর্ষণ তাজা সামুদ্রিক মাছ — রূপচাঁদা, কোরাল, লইট্টা, চিংড়ি আর কাঁকড়া। প্রায় সব হোটেল-রেস্টুরেন্টেই মাছের নানা পদ পাবেন; দাম অর্ডারের আগে জিজ্ঞেস করে নেওয়াই ভালো। নারকেলের পানি দ্বীপে সহজলভ্য আর সস্তা — সারাদিনের ঘোরাঘুরিতে এটাই সবচেয়ে ভালো পানীয়। পানির বোতলের প্লাস্টিক দ্বীপে না নেওয়ার নিয়ম থাকায় নিজের ফ্লাস্কে পানি ভরে ঘোরাটাই নিয়মসম্মত ও সুবিধাজনক।
দ্বীপে গিয়ে কী কী দেখবেন?
পশ্চিম সৈকত সূর্যাস্তের জন্য সেরা — প্রবাল পাথরের ওপর বসে সূর্য সাগরে ডুবে যাওয়ার দৃশ্য সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে মনে রাখার মতো মুহূর্ত। ভাটার সময় ছেঁড়া দ্বীপে যান — মূল দ্বীপ থেকে আলাদা এই অংশে প্রবাল, শামুক-ঝিনুক আর পরিষ্কার পানির ছোট ছোট খাঁড়ি দেখা যায়; নৌকা ভাড়া আনুমানিক কয়েকশো টাকা, যাওয়ার আগে জোয়ার-ভাটার সময়টা জেনে নিন। ভোরে দ্বীপের চারদিকে হেঁটে বা সাইকেল/ভ্যানে এক চক্কর দিন — জেলেদের নৌকা ফেরা, বাজারে তাজা মাছ ওঠা, শুঁটকি পল্লীতে সারি সারি মাছ শুকানো, এই দৃশ্যগুলোই দ্বীপের আসল জীবন। গলাচিপা ও উত্তর দিকের সৈকত তুলনামূলক নির্জন। সাঁতার কাটতে চাইলে অবশ্যই স্থানীয়দের কাছে নিরাপদ জায়গা জেনে নিন — প্রবাল পাথরে পা কাটার ঝুঁকি থাকে, তাই পানিতে নামার স্যান্ডেল সঙ্গে রাখুন, আর গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
পরিবেশের নিয়ম — এগুলো মানতেই হবে
সেন্টমার্টিন এত কঠোর নিয়মের মধ্যে যাওয়ার কারণ একটাই: দ্বীপের প্রবাল, কাছিম আর জীববৈচিত্র্য বিপন্ন অবস্থায় আছে। নিয়মগুলো পর্যটকদের জন্যই, দ্বীপটা টিকে থাকলেই ভবিষ্যতে আবার যাওয়া যাবে। পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (পানির বোতলসহ) দ্বীপে নেওয়া নিষিদ্ধ — নিজের পুনঃব্যবহারযোগ্য ফ্লাস্ক নিন। রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, আগুন, বারবিকিউ আর উচ্চ শব্দ করা নিষিদ্ধ — রাতের অন্ধকারেই সামুদ্রিক কাছিম ডিম পাড়তে আসে। সৈকতে মোটরযান চালানো যাবে না। প্রবাল পাথর ভাঙা, তোলা বা সঙ্গে করে নিয়ে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ — দেখুন, ছবি তুলুন, কিন্তু ছুঁয়ে নষ্ট করবেন না। নিজের ময়লা নিজের ব্যাগে করে ফিরিয়ে আনুন। এই নিয়মগুলো মানা কঠিন কিছু না, কিন্তু না মানলে পুরো দ্বীপের ভবিষ্যৎটাই ঝুঁকিতে পড়ে।
যাওয়ার আগে শেষ কয়েকটা পরামর্শ
এক, টিকিট-হোটেলের কোনো বুকিংই চূড়ান্ত ঘোষণার আগে দেবেন না। দুই, পরিচয়পত্র (NID) অবশ্যই সঙ্গে রাখুন — টিকিট যাচাইয়ে লাগবে। তিন, নগদ টাকা যথেষ্ট নিন — দ্বীপে ব্যাংকিং ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সীমিত, সব জায়গায় ডিজিটাল পেমেন্ট চলে না। চার, পাওয়ার ব্যাংক, টর্চ, প্রয়োজনীয় ওষুধ আর সানস্ক্রিন ব্যাগে রাখুন। পাঁচ, ফিরতি জাহাজের সময় আগেই মিলিয়ে নিন, আবহাওয়া খারাপ হলে জাহাজ বাতিল হতে পারে — হাতে একদিনের বাড়তি সময় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। ঘোষণা এলেই এই পোস্টে তারিখ, ভাড়া ও নিয়মের সর্বশেষ তথ্য যোগ করে দেওয়া হবে। ততদিন পরিকল্পনাটা সাজিয়ে রাখুন — সেন্টমার্টিন এমন একটা জায়গা, যেখানে একবার গেলে সাগরের ওই নীল রঙটা অনেক দিন মাথায় থেকে যায়। শুভ ভ্রমণ!
প্রায়ই জিজ্ঞেস করা প্রশ্ন
এ বছর সেন্টমার্টিন কবে খুলবে?
২০২৬–২৭ মৌসুমের সরকারি চূড়ান্ত ঘোষণা এই লেখা পর্যন্ত (১৬ অক্টোবর ২০২৬) আসেনি; নিয়মগুলো এখন পুনর্বিবেচনাধীন। গত মৌসুমে বাস্তবে জাহাজ চলেছিল ১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। ঘোষণা এলেই এই পোস্ট আপডেট করা হবে — ভ্রমণের আগে পর্যটন বোর্ডের পোর্টাল মিলিয়ে নিন।
টেকনাফ থেকে কি সেন্টমার্টিনের জাহাজ যায়?
না। নিরাপত্তার কারণে টেকনাফ রুট বন্ধ। গত মৌসুমে জাহাজ ছেড়েছে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া BIWTA ঘাট থেকে, সময় লেগেছে আনুমানিক আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা।
সেন্টমার্টিনে কি রাতে থাকা যাবে?
ঘোষণা সাপেক্ষে। গত মৌসুমে নভেম্বরে শুধু দিনের ভ্রমণ ছিল, রাত্রিযাপনের সুযোগ ছিল শুধু ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে। এবারের নিয়ম চূড়ান্ত ঘোষণা এলেই জানা যাবে, তাই ঘোষণার আগে রাত থাকার পরিকল্পনা নিশ্চিত ধরে নেবেন না।
সেন্টমার্টিন ভ্রমণে মোট কত টাকা খরচ হয়?
ঢাকা থেকে দুই দিনের ট্রিপে জনপ্রতি আনুমানিক ৬,০০০–১২,০০০ টাকা — বাস ও জাহাজের যাতায়াত, এক রাতের থাকা, খাবার আর দ্বীপে ঘোরাঘুরি মিলিয়ে। জাহাজের ভাড়া ও নিয়ম এবারের ঘোষণা অনুযায়ী বদলাতে পারে।
সেন্টমার্টিনের টিকিট কীভাবে কাটব?
গত মৌসুমের নিয়মে টিকিট কাটতে হয় বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের অনুমোদিত অনলাইন পোর্টাল থেকে; প্রতিটি টিকিটে QR কোডসহ ট্রাভেল পাস থাকে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে যাচাই হয়। দিনে পর্যটকের সংখ্যা সীমিত থাকে, তাই ঘোষণার পর দেরি না করে টিকিট কাটুন।